স্বর্ণের দাম এক মাসের মধ্যে তিনবার বাড়ল কেন?

0
64

পুরনো ঢাকার তাঁতী বাজারে বহু দিনের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন ঢাকা স্বর্ণশিল্পী শ্রমিক সঙ্ঘের কার্যকরী সদস্য বাবুল দাস। তিনি বলছেন, গত এক মাসে তাদের কাছে কাজের অর্ডার একদম আসেনি বললেই চলে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এত ঘন ঘন স্বর্ণের দাম বাড়ছে যে অনেকেই ভাবছেন, একটু কমলে বানাবেন। কিন্তু দাম বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, পাকা স্বর্ণের বদলে গিনি স্বর্ণের দাম বাড়ায় তারা অবাক হচ্ছেন। 
বিষয়টিকে তিনি ‘ঘি থেকে তেলের দাম বাড়ার’ সাথে তুলনা করে বলেন, পাকা স্বর্ণের চেয়ে খাদ দেয়া স্বর্ণের দাম বাড়ছে। কিন্তু হওয়ার কথা উল্টোটা। গিনি স্বর্ণের দাম কম হওয়ার কথা। 
বাংলাদেশে গহনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ধাতু হচ্ছে স্বর্ণ। সব মিলিয়ে এই বছরের শুরু থেকে সাতবার স্বর্ণের দাম বাড়ল। জানুয়ারি মাসে যে স্বর্ণের দাম ছিল ভরি প্রতি ৪৮ হাজার ৯৮৮ টাকা, গতকাল সোমবার থেকে সেই স্বর্ণের জন্য ভরি প্রতি আপনাকে প্রায় সাত হাজার টাকা বেশি খরচ করতে হবে। গতকাল থেকে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম পড়বে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা। 
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস গত রোববার রাতে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। 
এ বছর জানুয়ারি মাসে দুই দফায় স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিল এই সমিতি। নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর দাম বাড়ানো হয়েছে কয়েক দফা। 
স্বর্ণের দাম আবারো কেন বাড়ানো হচ্ছে? 
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বাড়ছে তাই তাদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে। তিনি দাম বৃদ্ধির একটি ধারণা দিয়ে বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বছরের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে আউন্স প্রতি স্বর্ণের দাম বেড়েছে আড়াই শ’ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় আনুমানিক ২১ হাজার টাকা। ভরি প্রতি আট হাজার টাকা। কিন্তু আমরা একবারে না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বাড়াচ্ছি। 
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ আমদানি শুরু না হলেও যারা লাগেজে করে স্বর্ণ আনেন, তারাও তো আন্তর্জাতিক বাজারের দরেই সেটি কিনে আনেন। যারা রিসাইকেল করা স্বর্ণ কিনছেন তারাও আন্তর্জাতিক বাজারের দাম অনুসরণ করেন। 
চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব? 
দিলিপ কুমার আগরওয়ালা দাবি করছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। অতএব বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারের তার প্রভাব পড়েছে। কিন্তু সেটি কিভাবে কাজ করে? 
তিনি বলেন, চীনের নানা ধরনের পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন, তখন চীন ডলার ছেড়ে দিয়ে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়িয়ে দিলো। এতে ডলারের দরপতন হয়; যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ক্রাইসিস হয়ে দাম ঊর্ধ্বগতি হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বর্ণের দাম সামনে কমার কোনো লক্ষণ তারা দেখছেন না। 
স্বর্ণ ব্যবসায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা 
বাংলাদেশে স্বর্ণ ব্যবসার ওপর সেই অর্থে সরকারের এখনো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ আছে। দেশে কী পরিমাণ স্বর্ণ আছে তার কোনো সঠিক হিসাবও তাদের কাছে নেই। বাংলাদেশের সরকার সম্প্রতি একটি স্বর্ণ নীতিমালা করেছে। অপ্রদর্শিত স্বর্ণকে বৈধ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণের ডিলার নিয়োগ দিয়ে স্বর্ণ আমদানির কথাও বলা হচ্ছিল। সেসব বিষয়ে যদিও খুব একটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা বলছেন, এর সাথে কিছু সম্পর্কে আমি দেখতে পাচ্ছি। স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আগেও বেড়েছে। কিন্তু এখন তারা দামের সামঞ্জস্য করতে হচ্ছে বলছেন কেন?

তিনি বলেন, সরকার এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার চেষ্টা করছে। এর সাথে নিশ্চয়ই কিছু আর্থিক বিষয় জড়িত। অবৈধ পথে আসলে অনেক টাকা ফাঁকি দেয়া যায়। এখন তারা সেই আর্থিক খরচ মিনিমাইজ করার চেষ্টা করছেন বলে আমি মনে করি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here