বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ নবায়নের নতুন আবেদন নিতে পারবে না ব্যাংক

0
18

বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ নবায়নে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না ঋণখেলাপিরা। তবে এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোতে যেসব আবেদন এসেছে, তা আগামী ১৯ নভেম্বর বা উচ্চ আদালতে চলমান রিট পিটিশন নিষ্পত্তির মধ্যে যেটি আগে আসবে সে সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক সার্কুলার লেটার জারি করা হয়েছে। গতকালই তা পরিপালনের জন্য সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে অবহিত করা হয়।
জানা গেছে, ব্যাংক খাত থেকে মন্দ মানের খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নবায়ন বা এককালীন এক্সিট সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। সার্কুলারে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে যেকোনো অঙ্কের মন্দ মানের খেলাপি ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়। ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। আর ঋণ নবায়নের মেয়াদ হবে ১০ বছর। তবে গত ৩১ ডিসেম্বরের আগে যেসব ঋণ মন্দ মানের খেলাপি হয়েছে কেবল ওই সব ঋণখেলাপি এ সুবিধা ভোগ করতে পারব। গত ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর করার নির্দেশনা দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে। সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এ সুবিধার জন্য গ্রাহককে আবেদন করতে বলা হয়। সে হিসাবে সার্কুলার জারির ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল গত ১৩ আগস্ট। তবে উচ্চ আদালত থেকে দুই দফা স্থগিতাদেশের কারণে এ সার্কুলারের আলোকে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রণালয়ের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বাড়িয়ে ৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে গত ২৯ আগস্টের আরেক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় আবেদন নেয়ার সময় আরো বাড়িয়ে ২০ অক্টোবর করা হয়। ২০ অক্টোবর উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে আপিল শুনানি হয়। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন বিআরপিডি থেকে জারি করা ৫ নম্বর সার্কুলারের কার্যকারিতা আরো এক মাস অথবা রিট পিটিশন নিষ্পত্তির তারিখ যেটি আগে আসবে সে পর্যন্ত বৃদ্ধির আদেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের এ আদেশের পর আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীদের মতামত নেয়া হয়। যেহেতু উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে ২০ অক্টোবরের পর কোনো ব্যাংক গ্রাহক থেকে আবেদন নিলে তা অবৈধ হবে বলে আইনজীবীরা মতামত দেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল এ বিষয়ে আবারো সার্কুলার জারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিবিভাগের মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্বে) এ কে এম এহসান স্বাক্ষরিত গতকালের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের আদেশের আলোকে সার্কুলারের আওতায় এর আগে গৃহীত আবেদন আগামী ১৯ নভেম্বর অথবা রিট পিটিশন নিস্পত্তির মধ্যে যে তারিখ আগে আসবে সে সময় পর্যন্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। তবে ২০ অক্টোবরের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা যাবে না। এতে আরো বলা হয়, আলোচ্য সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল সুবিধা নেয়া কাউকে নতুন করে ঋণ সুবিধা দেয়া যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here